
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃনারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে ঘটে যাওয়া এক পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় যুবক নাইম মিয়া (৩৩) রূপগঞ্জ থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে পাঁচজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং অজ্ঞাত আরও ১০–১৫ জনকে অভিযুক্ত করেছেন। অভিযোগে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে— এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী ইয়াছিন খাঁ–এর মূল আশ্রয়দাতা, পৃষ্ঠপোষক ও সেল্টারদাতা হিসেবে রাসেল ফকির (৩০) দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন এবং এই হামলার পেছনেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, গত ২৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে, কবিরের বাড়ির পাশের রাস্তায় নাইম মিয়ার পথরোধ করে ইয়াছিন খাঁ, রাসেল ফকির, ইকবাল খাঁ, টুকু খাঁ, ওমর মিয়া এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১৫ জন। তাদের হাতে ছিল দা, চাপাতি, রামদা, লোহার রড, ছেন, চাইনিজ কুড়াল, সুইচগিয়ার ও পিস্তলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র। এ সময় ইয়াছিন খাঁ হত্যার উদ্দেশ্যে চাপাতি দিয়ে মাথায় কোপ মারেন। ভুক্তভোগী হাত তুলে প্রতিরোধ করলে তার বাম হাতে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। একই সঙ্গে রাসেল ফকির রামদা দিয়ে তার ডান রানে কোপ মারেন, যা গিয়ে লাগে প্যান্টের পকেটে থাকা মোবাইল ফোনে। এতে ফোনটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায় এবং প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়।
চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় এবং যাওয়ার সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায়— বাড়াবাড়ি করলে বা মামলা করলে সুযোগ পেলে শেষ করে ফেলবো।” পরে নাইম মিয়া স্থানীয়দের সহায়তায় ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পারিবারিক আলোচনা ও পরিস্থিতি বিচার করে থানায় অভিযোগ দিতে বিলম্ব হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ভুক্তভোগী দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ইয়াছিন খাঁ, রাসেল ফকির ও ইকবাল খাঁ এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তবে পুরো চক্রটির মূল শক্তি হিসেবে কাজ করছে রাসেল ফকির, যিনি ইয়াছিনকে আশ্রয়-প্রশ্রয়, অর্থসহায়তা ও নিরাপত্তা দিয়ে এলাকায় অপরাধী চক্রটিকে শক্তিশালী করে তুলেছেন।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তারিকুল ইসলাম বলেন,লিখিত অভিযোগটি আমরা গ্রহণ করেছি। ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। কারা সরাসরি জড়িত এবং কারা সহযোগী—সব কিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। কেউই আইনের বাইরে নয়।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা চিহ্নিত সন্ত্রাসী এই চক্রটির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।





















আপনার মতামত লিখুন :