
কমরেড স্বপন, দিনাজপুর: পার্বতীপুর উপজেলায় অবৈধভাবে দেবোত্তর সম্পত্তি দেদারছে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, সরকার পাবলিক বা প্রাইভেট দেবোত্তর সম্পত্তি ও ট্রাস্ট বিক্রয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভূয়া সেবাইতরা ইতিপূর্বে দেবোত্তর সম্পত্তি ও মন্দির বিক্রি করছে এবং এখনো বিক্রি করে লুটপাট চলছে। আইনের দৃষ্টিকোণ ছাড়াও ধর্মীয় দিক দিয়ে দেবোত্তর সম্পত্তি বিক্রি করা মহাপাপ। ভুয়া মালিক ও সেবাইত সাজিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি দেবোত্তর সম্পত্তি এওয়াজ বদল দলিল সূত্রে বিক্রি করে হস্তান্তর করছে এবং মোটা অংকের টাকা ব্যক্তিগতভাবে নিজের পকেটে পুরছে। ১৯৫০ সালের ভূমি দখল ও প্রজাস্বত্ব আইনের ১০৩(৩) ৬ এ (বি) ১ ধারা সেকশন এর মতে এ ধরনের সম্পত্তি হস্তান্তর সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
পার্বতীপুর শহরের খামার জগন্নাথপুর মৌজার ১.১৪৯৪ একর ও পার্বতীপুর মৌজায় ২.১৮০০ একরসহ মোট ৩.৩২৯৪ একর জমি দেবোত্তর সম্পত্তি রয়েছে। এইসব জমির উপর শ্রী শ্যাম সুন্দর বিগ্রহ নামীয় কোটি কোটি টাকা মূল্যের দেবোত্তর সম্পত্তি রেকর্ডভুক্ত রহিয়াছে। এই জায়গায় কিছু সংখ্যক লোক স্বাধীনতার পর থেকে বাসা বাড়ি করে বসবাস ও দোকানপাটে ব্যবসা করে আসছিল। এইসব বৈধ দখলদারিকে ভুয়া সবাই নামধারী স্বপন কুমার পাল, দেবাশীষ পাল, অতুল কুমার পাল ও সনাতন কুমার পাল এই চারজন ও পৈত্রিক সম্পত্তি দাবি করে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতায় পেশি শক্তিও সন্ত্রাসীর মাধ্যমে ভয়-ভীতি দেখিয়ে এই সম্পত্তিতে বৈধ দখলদারকে দোকানপাট ও বাসা বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেছে যাদের দোকানপাট ও বাসা বাড়ি ছিল তারা হলেন আইয়ুব আলী, আজাহার আলী, জগদীশ চন্দ্র মহন্ত, অজিত রায়, রবীন্দ্রনাথ রায় ছাড়াও বেশ কয়েকজনকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে। এদের মধ্যে কয়েকজন উচ্ছেদের বিরুদ্ধে দিনাজপুর আদালতে মামলা করলে মামলা দায়ের কারীর পক্ষে রায় হয়। আদালতের রায় পাওয়ার পরেও ভুয়া দখলকারি উচ্ছেদ করতে ব্যর্থ হয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে আর্থিক সুবিধা দিয়ে উচ্ছেদ ও দেবোত্তর সম্পত্তি বিক্রি করে চলছে। যা তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
দেবোত্তর সম্পত্তিতে মন্দির পরিচালনা করার জন্য একটি সংরক্ষণ কমিটি থাকে। বিগত ১৯৯৬ সালে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক কর্তৃক ২৭/১১/১৯৯৬ ইং তারিখে তদানিন্তন রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর মোঃ আব্দুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত ৭ সদস্য বিশিষ্ট মন্দির পরিচালনা করার জন্য একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করে দেয় এবং কমিটির সদস্যবৃন্দ গণেরা দীর্ঘদিন কমিটির কার্যক্রম চালিয়েছেন। পরে ভুয়া সেবাইতের স্বার্থের হানি হওয়াই দেবাশীষ পাল গং পিতা তপন কুমার পাল উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কমিটির কার্যক্রম অচল করে দেয়। পরে তারা মালিক সেজে অবৈধভাবে জায়গা জমি বিক্রি লুটপাট শুরু করে। এর পূর্বে অবৈধভাবে মন্দিরের জায়গা জমি বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক ভাবে সুবিধাভোগ করে লুটপাট করেছে।
ইতিপূর্বে ৪৬২ নং খতিয়ানে ১১৮৯ নং দাগের ১৮ শতক জমি অবৈধভাবে বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে। যারা জমি ক্রয় করেছেন তারা হলেন মোঃ মাহবুবুর রহমান পিতা মৃত আজিজুর রহমান, ক্ষিতীশ চন্দ্র গং সর্ব পিতা গণেশ চন্দ্র মহন্ত। ইহা ছাড়াও ৪৬৩ খতিয়ানের ১১৯২ নং দাগের মোঃ আফছার আলী পিতা মৃত ইউসুফ আলীর কাছে ৫.৫ শতক জায়গায় বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেছে।আরো জানা যায়, গ্রাম অঞ্চলের চাষাবাদ ক্ষেত অনেক জমি ভুয়া সেবাইত সেজে বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করছে। যারা জমি ক্রয় তারা দুই তিন তলা পাকা বাড়ি করে বসবাস করছেন করেছেন।
আরো একটি মজার ব্যাপার হলো, শ্রী শ্যামসুন্দর বিগ্রহ মন্দিরের ৫২৫ নং রেকর্ড ভুক্ত খতিয়ানের ১১৮৬ নং দাগের ০.০০২৫ শতকের পরিবর্তে নিজেদের লোক দিয়ে অর্থাৎ স্বপন কুমার পাল সকলের পিতা মৃত তপন কুমার পাল বাদী ও শ্রী তাপস পাল পিতা মৃত তারাপদ পালকে বিবাদী করে দিনাজপুর জজ আদালতে মামলা দায়ের করে। বিচারককে ভুল বুঝিয়ে মন্দিরের রেকর্ড ভুক্ত আড়াই শতক জমির পরিবর্তে ২৫ শতক জমির রায় বহাল করে নিতে সক্ষম হয়। মামলা নং- ৩১/০৬ অন্য দাঃ তারিখ ১৭/০৪/২০০৬ ইং।
এই দেবতার সম্পত্তি অর্থাৎ শ্রী শ্রী শ্যামসুন্দর বিদ্রোহের জায়গা জমি চার ভাইয়ের প্রতি জনের ১৭৬.০৪৬৫ শতক জমি চারজনের জমির পরিমাণ ৭০৪.১৮৬২৮ শতক বন্টন নামা দলিল ১০/১০/২০২১ সালে পার্বতীপুর সাব রেজিস্টার অফিসে সাব রেজিস্টার মোঃ তহিদুল ইসলাম দলিল সম্পাদন করেন। দলিল নং ৬৫০৫। পরবর্তীতে ভূয়া সেবাইত ও মালিক সাজিয়া এই সম্পত্তির ১০ টি দাগের মোট ৭৮.০৭ শতক জমি মাঠ পর্চা করে।
খামার জগন্নাথ পুর মৌজায় ৪৬৭ ও ৪৬৮ নং খতিয়ান ভক্ত ১২৩৮ ও ১২৩৯ নং দাগের ০.০৭৬৩ একর ও ০.০৪৯৪ একর জমি সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে তাদের নামে ২০২৫ সালে দুইটি দাগের জমি নাম জারি করে নেয়। এই সম্পত্তির নাম জারি করলে তারা জমির মালিকানা সাব্যস্ত হলে জমিগুলি বিক্রির ব্যাপারে আর কোন বাধা থাকবে না। কিন্তু স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় তাদের নামে অবৈধভাবে নামজারির কথা জেনে সরকারি কমিশনার ভূমি অফিস ঘেরাও করলে চাপের মুখে অবশেষে সরকারি কমিশনার ভূমি দুইটি দাগের জমি নামজারি কার্যক্রম বাতিল করতে বাধ্য হয়।
পরিশেষে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট যারা ভুয়া সেবাইত ও মালিক সেজে জমি বিক্রয় করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে এবং যারা নিজের নামে নামজারি করেছিল দলিল লেখক মোসাদ্দিক হোসেন সহ তাদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা এবং নামজারির দশটি দাগের জমি তাদের নামে মাঠ জরিপ সহকারী কমিশনার অফিসার এএসও অফিসে বাতিল করার জোর দাবি চালাচ্ছেন এবং যাদের নামে অবৈধভাবে এওয়াজ বদল বা অন্যান্য দলিল সম্পাদন করা হয়েছে সেগুলো আদালতে বাতিল করার এর জন্য আবেদন জানাচ্ছেন।
আপনার মতামত লিখুন :