খুলনা জেলা পরিষদের দায়িত্ব গ্রহন করলেন নবনিযুক্ত প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী


নিউজ এডিটর প্রকাশের সময় : মার্চ ১৬, ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ন /
খুলনা জেলা পরিষদের দায়িত্ব গ্রহন করলেন নবনিযুক্ত প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী

মোঃ শামীম হোসেন – খুলনা: জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ায় উন্নয়ন কর্মকান্ড সচল ও জনগনের প্রত্যাশা পূরণ হবে। খুলনা সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, স্থবির জেলা পরিষদগুলো সচল করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছেন। এই নিয়োগের মধ্যদিয়ে খুলনা জেলার উন্নয়ন কর্মকান্ডগুলো সচল হবে, তরান্বিত হবে এবং জনগনের প্রত্যাশা পূরণ হবে। ঈদের পূর্বের এই নিয়োগ আমাদেরকে নানাভাবেই অনুপ্রাণিত করছে। কিছুদিন পূর্বে আমাকেও সিটি করপোরেশন নিযুক্ত করেছেন। এখন আমরা মিলে-মিশে খুলনা মহানগরী ও জেলার মানুষের কল্যাণে কাজ করবো। আমাদের মনে রাখতে হবে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সততা-নিষ্ঠা প্রজ্ঞা শিক্ষা দিয়েই মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। স্মরণ রাখতে হবে জুলাই অভ্যূত্থান ও দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা রক্ত দিয়েছে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য এই সরকার যাত্রা শুরু করেছে বলে উল্লেখ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি খুলনা সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ১৬ মার্চ (সোমবার) দুপুর ২টায় খুলনা জেলা পরিষদে নবনিযুক্ত প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী দায়িত্বভার গ্রহন করেন। আনুষ্ঠানিক দায়িত্বভার গ্রহণ অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, জেলা পরিষদকে দুর্নীতিমুক্ত জনবান্ধব কল্যাণকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার বদ্ধপরিকর। কোনো দুর্নীতিবাজদের ঠাঁই খুলনা জেলা পরিষদে হবে না। জেলা পরিষদ হবে জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠান। তৃণমূল জনগোষ্ঠির দ্বোরগড়ায় জেলা পরিষদের প্রাপ্য আর্থিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সেবা পৌঁছে দেয়াই হবে আমার মূল কাজ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে খুলনা জেলা পরিষদ হবে একটি নিঃস্বার্থ সেবামুলক প্রতিষ্ঠান। দায়িত্ব হস্তান্তর করেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম।আরও বক্তৃতা করেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান ও জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোঃ মনিরুজ্জামান মন্টু। খুলনা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেছেন, দীর্ঘ স্বৈরাশাসন অবসানের পর অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার তারেক রহমানের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করেছে। দেশ পরিচালনায় দায়িত্বভার কাঁধে তুলে নেওয়ার পর অনিয়ম-দুর্নীতি ও আওয়ামী লুটপাটে অচল-স্থবির জেলা পরিষদকে সততা-নিষ্ঠা ও প্রজ্ঞার সাথে কাজ করে দুর্নীতিমুক্ত জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যর্থহীন কণ্ঠে নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭টি বছর এই খুলনা জেলা পরিষদ ছিল একটি দুর্নীতির আখড়া। দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হলেছিল খুলনা জেলা পরিষদ। নিয়ম-নীতির কোনো বালাই ছিল না। জনগনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতির কাছে এই দেশের কাছে মানুষের কাছে ওয়াদা করেছিলেন- বাংলাদেশকে একটি দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ে তুলবেন। সেই সুবাদে তিনি আমার প্রতি আস্থা রেখে এই দায়িত্ব আমার উপর অর্পন করেছেন। সততা, নিষ্ঠার সাথে জেলা পরিষদকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার সক্ষমতায় সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি। জনগনের অবাধ যাতয়াতে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামুলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে জেলা পরিষদকে জনবান্ধব সেবালয় হিসেবে গড়ে তুলতে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। মহান আল্লাহ্’র শুকলিয়া আদায় করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও খুলনাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। দীর্ঘ ১৭টি বছর খুন-গুম, জুলুম-নির্যাতনের মুখোমুখী হওয়া ত্যাগী-পরীক্ষিত নেতাকর্মী-সমার্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী। দায়িত্ব গ্রহনের পর মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, অবিসাংবাদিত আপোষহীন নেত্রী তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তাঁদের কণিষ্ঠপুত্র আরাফাত রহমান কোকোসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে ও ‘২৪ এর গণঅভ্যাত্থানে নিহত সকলের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়। একই সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের সুস্থ্য দীর্ঘায়ু কামনা কামনা ও দেশ-জাতির সুখ-সম্বৃদ্ধি প্রার্থনা করা হয়েছে। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এডঃ শফিকুল আলম মনা, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক) মো. শফিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান, জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক জুলফিকার আলী জুলু, মো. তৈয়েবুর রহমান, এসএম শামীম কবির, গাজী তফসির আহমেদ, অধ্যক্ষ মনিরুল হক বাবুল, জেলা বিএনপি’র সদস্য শেখ আব্দুর রশিদ, এসএ রহমান বাবুল, চৌধুরী কাওসার আলী, মোল্লা মোশাররফ হোসেন মফিজ, কামরুজ্জামান টুকু, এনামুল হক সজল, পাইকগাছা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ডা. আব্দুল মজিদ, ফুলতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি চেয়ারম্যান আবুল বাসার, এম এ হাসান, আশরাফুল আলম নান্নু, শেখ আজগর আলী, জাফরী নেওয়াজ চন্দন, মনিরুজ্জামান লেলিন, আব্দুল মালেক, আশরাফুল ইসলাম নূর, পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এনামুল হক, উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক, পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ, সাধারন সম্পাদক সেলিম নেওয়াজ, জেলা মহিলাদলের সভাপতি এড. তসলিমা খাতুন, রূপসা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মোল্লা সাইফুর রহমান, কয়রা উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব নুরুল আমীন বাবুল, পাইকগাছার শাহাদাত হোসেন ডাবলু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মিরাজুর রহমান মিরাজ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান মিস্ত্রী, এজাজুর রহমান শামীম, খন্দকার ফারুক হোসেন, শাকিল আহমেদ দিলু, জাবেদ মল্লিক, হাবিবুর রহমান হবি, আব্দুল মান্নান খান, দীপক সরদার, গাজী জাহাঙ্গীর আলম, মোজাফফর হোসেন, মোল্লা কবির, আবু সাঈদ, মোল্লা আইয়ুব হোসেন, রকিব মল্লিক, হাবিবুর রহমান হবি, এনামুল কবির, এ্যাড. শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
খুলনার জেলার নয়টি উপজেলা ও দু’টি পৌরসভা বিএনপি’র বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী-সমার্থকরা আনন্দঘন পরিবেশে স্বতস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ আলি আসগর লবির পক্ষে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী নির্ধারিত কক্ষে বসে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেন।

Host DSF