
মোঃ শামীম হোসেন – খুলনা: খুলনার দাকোপের বানিশান্তা পতিতা পল্লীতে ইয়াবার ফাঁদে দুর্বল জীবন: অসহায় মেয়েদের টার্গেট করছে মানব পাচার চক্র। পতিতা পল্লী ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র। সমাজের চোখে অন্ধকার, শোষণের নতুন কৌশলদেশের বিভিন্ন প্রান্তে দরিদ্রতা এবং সহায়-সম্বলহীনতার সুযোগ নিয়ে গড়ে উঠেছে এক ভয়ংকর মানব পাচার চক্র, যা সহজ-সরল এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের জীবনের সর্বনাশ ডেকে আনছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে
এই চক্রটির মূল কৌশল হলো প্রথমে মেয়েদের নানা মিথ্যা প্রলোভনে তাদের দখলে নেওয়া এবং এরপর তাদের উপর মরণ নেশা ইয়াবার আসক্তি চাপিয়ে দিয়ে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। মাদককে বানানো হয়েছে শৃঙ্খল এই পাচার চক্রের সর্দারনীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা মেয়েদের শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল করতে মাদককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। সহজ-সরল মেয়েদের প্রথমে ‘আশ্রয়’ বা ‘ভালো কাজের’ নাম করে নিয়ে আসা হয়। এরপর জোরপূর্বক বা কৌশলে তাদের ইয়াবায় আসক্ত করা হয়।
ভুক্তভোগী মেয়েদের সাক্ষাৎকার ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, একবার আসক্ত হয়ে গেলে এই নেশা থেকে মুক্তি পেতে তারা অসহায় হয়ে পড়ে। আর এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে চক্রটি তাদের যৌন মিলন করতে বাধ্য করে। মূলত, আসক্তির কারণে তৈরি হওয়া টাকার চাহিদা এবং শারীরিক-মানসিক নির্ভরশীলতা মেয়েদের শোষণের জালে আটকে রাখার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।অপ্রাপ্তবয়স্করা প্রধান শিকার এই চক্রের শিকার হওয়া মেয়েদের বড় অংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। পারিবারিক সমর্থন না থাকা, দ্রুত অর্থ উপার্জনের লোভ বা শুধু বেঁচে থাকার জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে থাকা এই কিশোরীরা সহজেই শোষকদের লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে। একজন সমাজকর্মী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “এটি কেবল মাদকাসক্তি বা পতিতাবৃত্তির বিষয় নয়; এটি একটি সুসংগঠিত অপরাধ, যেখানে একটি অসহায় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চরম শারীরিক ও মানসিক শোষণ চালানো হচ্ছে। এই মেয়েরা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত, তাদের পক্ষে সেখান থেকে পালানো বা পুলিশের কাছে অভিযোগ করা সম্ভব নয়।”আইনি নজরদারি এবং পুনর্বাসনের দাবি মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এই ধরনের অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
পাশাপাশি, ইয়াবা আসক্ত হয়ে শোষণের শিকার হওয়া এই মেয়েদের জন্য বিশেষ উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম প্রয়োজন, যা তাদের শারীরিক চিকিৎসা, মানসিক কাউন্সেলিং এবং সামাজিক পুনর্বাসনের পথ প্রশস্ত করবে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত এই ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং এই মেয়েদের সুরক্ষার জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে।





















আপনার মতামত লিখুন :