
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন একটি ঝড় উঠেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি, যা ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের তরুণ নেতাদের হাতে গড়ে উঠেছিল, সেই দলটি এখন বড় ধরনের সংকটের মুখে। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোটের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দলের অন্তত ১৪ জন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন। এই ঘটনা শুধু দলের অভ্যন্তরীণ বিভেদই নয়, বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক প্রজন্মের আদর্শিক সংকটকেও তুলে ধরছে।
এনসিপি গঠিত হয়েছিল গণতান্ত্রিক সংস্কার, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং তরুণদের নেতৃত্বে নতুন রাজনীতির স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু জামায়াতের সঙ্গে জোটের খবর ছড়িয়ে পড়তেই দলে অসন্তোষ শুরু হয়। অনেকে মনে করেন, এই জোট দলের মূল আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে একের পর এক শীর্ষ নেতা দল ছাড়ছেন।
এনসিপির এই সংকট শুরু হয় ডিসেম্বর ২০২৫-এর শেষ দিকে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতার খবর প্রকাশ্যে আসতেই দলের ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে স্মারকলিপি দেন। তাঁরা জোটের বিরোধিতা করেন।
কিন্তু জোট চূড়ান্ত হওয়ার পর পদত্যাগের হিড়িক পড়ে যায়। জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন কেন্দ্রীয় নেতা দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন:
এই পদত্যাগগুলো দলের জন্য বড় ধাক্কা, কারণ এরা অনেকেই জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির নেতা।
এনসিপি গঠিত হয় ২০২৫ সালে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর। শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর তরুণরা নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে। নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে দলটি ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক এবং সংস্কারমুখী রাজনীতির প্রতিশ্রুতি দেয়।
কিন্তু আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য একা লড়াই কঠিন মনে করে দলটি জোটের দিকে ঝুঁকে। জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা হয় প্রায় ৩০টি আসনে। নাহিদ ইসলাম বলেন, এটা শুধু নির্বাচনী জোট, আদর্শিক নয়।
তবে অনেক নেতা মনে করেন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের বিরোধিতা এবং তাদের রাজনীতি এনসিপির আদর্শের বিপরীত। ফলে ভাঙ্গন অনিবার্য হয়ে ওঠে।
এই সংকট থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে:
এনসিপির নেতৃত্ব এখন এই সংকট কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছে। কিন্তু পদত্যাগকারীরা অনেকেই স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন বা অন্য পথ খুঁজছেন।
এই ভাঙ্গন থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য কিছু সতর্কতা:
এনসিপি বা জাতীয় নাগরিক পার্টি ২০২৫ সালে গঠিত। ২০২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের তরুণ নেতারা এটি গড়েন ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য।
প্রধান কারণ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট। অনেকে মনে করেন এটা দলের আদর্শের বিপরীত।
জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন। আরও হতে পারে।
তিনি বলেন, জোট শুধু নির্বাচনী, আদর্শিক নয়। পদত্যাগ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
দল দুর্বল হতে পারে। কিন্তু নির্বাচনে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। কেউ কেউ নতুন প্ল্যাটফর্ম গড়ছেন।
এনসিপির এই ভাঙ্গন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নের দলটি এখন পরীক্ষার মুখে। কিন্তু রাজনীতিতে সংকট থেকেই নতুন পথ বের হয়।
দলের নেতৃত্বের উচিত অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র জোরদার করা এবং আদর্শে অটল থাকা। সমর্থকদের জন্য পরামর্শ: রাজনীতিতে ধৈর্য ধরুন, কারণ পরিবর্তন একদিনে আসে না। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এমন সিদ্ধান্তগুলোর ওপর।





















আপনার মতামত লিখুন :