
শোয়েব হোসেন: টি এন্ড টি কলেজ ১লা জুলাই ১৯৬৫ সালে স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষার গুণগত উন্নয়ন এবং এলাকার সামাজিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে একাধিক দূরদর্শী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে সেই পরিকল্পনা ও জমি প্রদানের মূল ঘটনা তুলে ধরা হল।
দাতা-স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মোঃ আব্দুল কাদির(প্রয়াত),পরিমাণ- ২.৫ বিঘা (≈ ১.০ হেক্টর) জমি,তারিখ- ১২ মার্চ ১৯৬৭ উদ্দেশ্য – কলেজের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ ও খেলার মাঠ নির্মাণের জন্য স্থায়ী সম্পদ প্রদান।প্রভাব- প্রদত্ত জমির উপর নির্মিত ৫,০০০ বর্গফুট শিক্ষা ভবন ও ৩,০০০ বর্গফুট খেলার মাঠ আজ কলেজের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। এই দান কলেজের আর্থিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি করেছে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করেছে।
বছরভিত্তিক পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন–১৯৬৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগ চালু,প্রযুক্তিগত শিক্ষার ভিত্তি শক্ত করতে ২টি ল্যাব স্থাপন,১৯৭০ সালে বৃত্তিমূলক কোর্স (কম্পিউটার, টেলিকম) চালুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানযোগ্য করা,স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন,১৯৮৫ সালে গ্রন্থাগার সম্প্রসারণ, পাঠ্য ও গবেষণা উপকরণ বৃদ্ধি এবং ১,০০০ বই সংগ্রহ,১৯৯৫ সালে নতুন ভবন নির্মাণ (শিক্ষা ভবন), শ্রেণীকক্ষ সংখ্যা বৃদ্ধিকল্পে ৫,০০০ বর্গফুট নির্মাণ,২০০৫ সালে ডিজিটাল শ্রেণীকক্ষ প্রবর্তন, তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার আধুনিকীকরণ ও২০টি ইন্টারেক্টিভ বোর্ড স্থাপন,২০১৫ সালে অভিভাবক‑শিক্ষক ফোরাম গঠন, শিক্ষার মান উন্নয়নে অংশীদারিত্ব ত্রৈমাসিক সভা আয়োজন,
২০২০ সালে অনলাইন শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম চালু, করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে শিক্ষা অব্যাহত রাখা ও কলেজ ওয়েবসাইটে LMS সংযুক্তি। উক্ত পরিকল্পনাগুলো কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমকে ধারাবাহিকভাবে উন্নত করেছে এবং এলাকার শিক্ষার্থীদের আগ্রহকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
নারী শিক্ষা- প্রতিষ্ঠার পর থেকে মেয়েদের ভর্তি ৩০% থেকে ৫৫% এ উন্নীত হয়েছে। বৃত্তিমূলক শিক্ষা- কম্পিউটার ও টেলিকম কোর্সের মাধ্যমে ১,২০০ এর অধিক শিক্ষার্থী কর্মসংস্থান পেয়েছে।সামাজিক কার্যক্রম- বার্ষিক স্বাস্থ্য ক্যাম্প, রক্তদান কর্মসূচি এবং সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন। বর্তমান অবস্থান (২০২৫): শিক্ষার্থী সংখ্যা-৮,২০০ জন (প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক),শিক্ষক সংখ্যা – ১২০ জন(৯৫% উচ্চতর ডিগ্রিধারী), শ্রেণীকক্ষ- ৬০টি (সম্পূর্ণ ইন্টারেক্টিভ) ল্যাব ও গ্রন্থাগার- ৪টি বিজ্ঞান ল্যাব, ২টি কম্পিউটার ল্যাব, ১টি আর্ট স্টুডিও এবং ১টি ৫,০০০ বইয়ের গ্রন্থাগার।
নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণ -২০২৮ সালের মধ্যে ১০,০০০ বর্গফুট নতুন শিক্ষা ভবন নির্মাণ। উন্নত গবেষণা কেন্দ্র-তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম গবেষণার জন্য জাতীয় পর্যায়ের ল্যাব স্থাপন।আন্তর্জাতিক সহযোগিতা- বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম চালু। টি এন্ড টি কলেজের প্রতিষ্ঠা পরবর্তী পরিকল্পনা এবং মোঃ আব্দুল কাদিরের জমি দানের ঘটনা দুটিই কলেজের উন্নয়নের মূল স্তম্ভ। এই দুই উপাদানের সমন্বয়ে কলেজ আজ শিক্ষা, গবেষণা ও সামাজিক সেবার এক আধুনিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যতের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এটি আরও বহুদূর পর্যন্ত শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেবে।
আপনার মতামত লিখুন :