ব্রাহ্মনবাড়িয়ার এসপি ও বিজয়নগরের ওসির বিরুদ্ধে দুদকসহ ১০ দপ্তরে দূর্নীতির অভিযোগ


নিউজ এডিটর প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৪, ২০২৫, ২:৪৬ অপরাহ্ন /
ব্রাহ্মনবাড়িয়ার এসপি ও বিজয়নগরের ওসির বিরুদ্ধে দুদকসহ ১০ দপ্তরে দূর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক ও ওসি শহীদুল ইসলামের ঘুষবানিজ্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সাংবাদিক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইজিপি, ও দুদকসহ মোট ১০ টি দপ্তরে ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক ও বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অদ্য ২৪ নভেম্বর দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মেহেদী হাসান এই লিখিত অভিযোগ জমা দেন- প্রধান উপদেষ্টা বরাবর জমা দেয়া ঐ অভিযোগটি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, তেজগাঁও এ জমা দেয়ার পাশাপাশি
উপদেষ্টা- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, উপদেষ্টা – তথ্য মন্ত্রনালয়, স্বরাষ্ট্র সচিব- জননিরাপত্তা ও সুরক্ষা সেবা বিভাগ,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইজিপি- বাংলাদেশ পুলিশ, চেয়ারম্যান- দুর্নীতি দমন কমিশন, ডিআইজি-চট্রগ্রাম রেঞ্জ, চেয়ারম্যান- জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক- জাতীয় প্রেসক্লাব,সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক – বিএফইউজে-বাংলাদেশ, সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক- বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব), বরাবরও অনুলিপি জমা দেয়া হয়েছে।

ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার এহতেশামুল হকের মদদে বিজয়নগর থানার ওসি শহীদুল ইসলাম কর্তৃক ক্ষমতার অপব্যবহার, দূর্নীতি এবং সাংবাদিককে হয়রানি প্রসঙ্গে করা এই লিখিত অভিযোগে সবিস্তারে অভিযোগকারী মেহেদী হাসান উল্লেখ করেন-

অতি সম্প্রতি ব্রাহ্মনবাড়িয়ার বিজয়নগর থানাধীন এলাকায় একটি মারামারির ঘটনা থামাতে গিয়ে প্রকাশ্যে পোশাকধারী অবস্থায় হামলার শিকার হয় উক্ত থানার দায়িত্বরত একজন উপ পরিদর্শকসহ আরো বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ( উক্ত ঘটনার ভিডিও আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে)। স্বভাবতই এ ঘটনায় পুলিশ এ্যাসল্ট এ্যাক্ট অনুযায়ী চিহ্নিত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা রুজু করার কথা থাকলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক এর পরোক্ষ নির্দেশনায় তার খাস লোক হিসেবে কুখ্যাতি পাওয়া বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম ( বিপি নং- ৮১০৮১২৩৫৪৩) পুলিশের ওপর হামলাকারীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ নিয়ে উপরোক্ত ঘটনায় কোন মামলা নেননি।

পরবর্তীতে এ বিষয়ে সরকার নিবন্ধিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকা অগ্রযাত্রা প্রতিদিন এর মাল্টিমিডিয়া বিভাগে “ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে পুলিশের রক্তের বিনিময়ে ঘুষ নিলেন ওসি শহীদুল” শিরোনামে একটি সহ মোট ৩টি ধারাবাহিক ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় যার প্রতিবেদক ছিলেন দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন এর বিজয়নগর উপজেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান। পুলিশ সুপার এহতেশামুল হকের তত্ত্বাবধানে ওসি শহীদুলের ঘুষবানিজ্য নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জেরে তারা উভয়েই সংক্ষুব্ধ হন। এবং পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় ওসি শহীদুল ইসলাম গত ২০ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে তার নিজস্ব সিন্ডিকেটের চিহ্নিত দালাল আব্দুল শহিদ সহ আরো এক দালালকে পরিকল্পিত ভাবে বাদী বানিয়ে কোন ধরণের প্রমাণ ছাড়া কাল্পনিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাংবাদিক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় একের পর এক চাঁদাবাজির মামলা রুজু করছেন, যার একটির নথি আমার হাতে এসে পৌছেছে। যেখানে ঘুষের কাছে হার মেনে খোদ পুলিশের ওপর প্রমাণিত হামলার ঘটনাতেই মামলা নেয়নি বিজয়নগর থানার ওসি শহীদুল সেখানে এ ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা নেয়ার বিরল ঘটনাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মূলত, অগ্রযাত্রা প্রতিদিন এর ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে পুলিশের পোশাকে ওসি শহীদুলের দুর্নীতি ও অপরাধের মুখোশ উন্মোচিত হওয়ায় পুলিশ সুপার এহতেশামুল হকের ঘুষবানিজ্যের গোপন এই ব্যবসার চরম ক্ষতি হওয়ায় তিনি এবং ওসি মিলে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করে একজন সাধারণ সাংবাদিককে পুলিশি হয়রানির উদ্দেশ্যে একের পর এক মামলার আসামী বানাচ্ছেন। বিষয়টি পত্রিকা কর্তৃপক্ষ হিসেবে আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে, দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বিজয়নগরে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারি, ব্রাহৃণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার এহতেশামুল হকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানেই বিজয়নগর থানার ওসি শহীদুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবত সীমান্ত এলাকার এই থানায় বেপরোয়া ঘুষবানিজ্যে জড়িত। মাদক স্পট,সীমান্ত চোরাচালান, জনসাধারণকে হয়রানি, খেয়াল খুশি মতো টাকার বিনিময়ে মামলা দেয়া বা না দেয়া ইত্যাদি, হত্যাকান্ড ধামাচাপা দেয়া,তদন্তে হস্তক্ষেপ, ইত্যাদি করেই মূলত মোটা অংকের টাকা ঘুষবানিজ্য করছেন ওসি শহীদুল। শুধু তাই নয়, খোঁজ নিয়ে আরো জানতে পারি, ওসি শহীদুল থানায় মামলা নেয়া কিংবা না নেয়ার ক্ষেত্রে ৫-৯ জনের একটি দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন যার নেতৃত্বে আছেন আব্দুল শাহিদ (এনআইডি নং- ২৪১৫৮৫২৯৮৩) নামক ব্যক্তি। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যম ছাড়া বিজয়নগর থানায় কোন মামলা রুজু হয়না। আর মামলা করতে হলে এই সিন্ডিকেটকে মোটা অংকের টাকা দিতে হয়৷ আর সেই মোটা অংকের টাকা ওসি শহীদুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার এহতেশামুল হকের পকেটে চলে যায়। শুধু তাই নয় ওসি শহীদুলের আদায়কৃত সকল ঘুষের টাকার একটি অংশ নিয়মিত পুলিশ সুপার এহতেশামুল হকের কাছে পৌছায়৷ পুলিশি ক্ষমতার এমন অপব্যবহার করে পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক ও ওসি শহীদুল ইসলাম বিপুল পরিমাণ গোপন অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে প্রতীয়মান হয়৷ ফলে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন বেহাল দশায় পরিণত হলেও আখেরে লাভবান হচ্ছেন উপরোক্ত ২ কর্মকর্তা।

জনস্বার্থে এ বিষয়টি অনতিবিলম্বে আমলে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ।

Host DSF