
স্টাফ রিপোর্টার: ১৭ জুলাই, পালিত হচ্ছে “আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবস” [International Justice Day]। প্রতিবছর এই দিনে মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে দিবসটি পালন করা হয়।
১৯৯৮ সালের ১৭ জুলাই, রোমে স্বাক্ষরিত হয় ‘রোম স্ট্যাটিউট’। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC)। আদালতের মূল বার্তা ছিল, “অপরাধ যেখানেই হোক, বিচার সবার জন্যই নিশ্চিত হোক”।
বর্তমানে, ICC পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে সংঘটিত গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচার করে থাকে। এর সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত। এখন পর্যন্ত ১২৩টি দেশ এই চুক্তিতে সই করেছে। সেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। বাংলাদেশ ১৯৯৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর রোম স্ট্যাটিউট অনুমোদন করে এবং পরে ICC এর সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
বাংলাদেশে দিবসটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT-BD)। এই ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বহু যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও রায় সম্পন্ন হয়েছে।
এই রায়গুলো আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। বাংলাদেশ তার ন্যায়বিচারের প্রতি প্রতিশ্রুতি দৃঢ় করেছে।
জাতিসংঘ, আইসিসি, এক্সেস টু হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল (AHRI) এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন আজ নানা কর্মসূচি পালন করছে। সেমিনার, র্যালি, ভার্চুয়াল আলোচনা, এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনতামূলক প্রচার চলছে।
আকিব হাসান সাদ, গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক, Access to Human Rights International (AHRI), বলেন:
“ন্যায়বিচার কেবল আদালতে নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিফলিত হতে হবে। আমাদের উচিত দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সমান ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।”
আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবস শুধুমাত্র অতীত অপরাধের বিচার নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ অপরাধ প্রতিরোধেরও প্রতিশ্রুতি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি একটি জাতির জন্য কতটা ভয়াবহ হতে পারে, এটি মনে করিয়ে দেয়।
ন্যায়বিচারই শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং মানবাধিকারের ভিত্তি।
আপনার মতামত লিখুন :